রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
পুরো দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুন, ক্লাস বর্জনের ডাক—কুয়েট ভিসির পদত্যাগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের রণাঙ্গিনার ঘোষণা!
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্রোহে ফেটে পড়েছে। আগামী বুধবার (২৩ এপ্রিল) দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত ছাত্ররা।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাতে শাহবাগে ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তার ডাকে সাড়া দিয়ে বুয়েট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট, কুয়েট, ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জড়ো হয় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী।
মুসাদ্দিক বলেন, “আমরা কোনো ক্লাস করব না। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জনের সঙ্গে প্রতীকী অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে। বিকেল তিনটায় রাজু ভাস্কর্যে হবে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ।”
এর আগে রাত সাড়ে দশটায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে কাঁপে চারদিক—‘এক দুই তিন চার, মাসুদ তুই গদি ছাড়’, ‘গোলামী না আজাদী, আজাদী আজাদী’, ‘আমার ভাই অনশনে, ইন্টেরিম কি করে’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’। ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট অবস্থানের পর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে তারা সরে যান।
কুয়েট শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, “যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। অনশনে বসা আমাদের ভাইদের পাশে এখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বসছে। এটা হবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক নতুন ইতিহাস।”
বুয়েট শিক্ষার্থী আব্দুন নুর তুষার বলেন, “৩৬ ঘণ্টা ধরে কুয়েট শিক্ষার্থীরা অনশনে। এই অবস্থায় কি আমাদের ক্লাসে যাওয়া মানায়? একাত্মতায় আমরা চাই, সব ক্যাম্পাসে হোক প্রতিবাদ।”
চুয়েট শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ বলেন, “সরকার ও প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা লজ্জাজনক। এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “যখন ভাই-বোনরা অনশনে, তখন ভিসি বলেন—আলোচনা চাই! এক দফা—পদত্যাগ করতেই হবে।”
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন জাবেদ বলেন, “বুয়েটের ভাইদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরাও পাশে আছি। সব বিশ্ববিদ্যালয় এক কণ্ঠে বলবে—বিচার চাই।”
এদিকে, ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের অনশন অব্যাহত রয়েছে।